প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনার ১১ বছর : ব্যাঙ্কিং-এর বাইরে থাকা মানুষকে ব্যাংকিং পরিষেবা-র আওতায় আনা হল
প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনার ১১ বছর : ব্যাঙ্কিং-এর বাইরে থাকা মানুষকে ব্যাংকিং পরিষেবা-র আওতায় আনা হল
কলকাতা, ২৭ আগস্ট, ২০২৫
“প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা দরিদ্রতম মানুষের জন্য আর্থিক পরিষেবা লাভের সুযোগ করে দিয়েছে। এটি ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্কিং-এর বাইরে থাকা মানুষজনের ব্যবধান কমিয়েছে, যার ফলে মর্যাদা, আত্মনির্ভরশীলতা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।”
— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট শুরু হওয়া, প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম আর্থিক অন্তর্ভুক্তির একটি।
২০২৫ সালের আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনার আওতায় ৫৬.১৬ কোটিরও বেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যেখানে মোট জমা হওয়া টাকার পরিমাণ ২.৬৭ লক্ষ কোটি ।
জন ধন অ্যাকাউন্ট গুলির ৫৬% মহিলাদের, যা আর্থিক পরিষেবা লাভের ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতাকে উৎসাহিত করতে এই প্রকল্পের সদর্থক ভূমিকাকে চিহ্ণিত করে।
ভূমিকা
এক দশক আগেও, অনেক ভারতীয়, বিশেষ করে গ্রামীণ এবং প্রান্তিক মানুষদের কাছে, ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ছিল এক অলীক স্বপ্ন। প্রথাগত আর্থিক পরিষেবাগুলির সুযোগ গ্রহণের উপায় না থাকায় লক্ষ লক্ষ মানুষ বাড়িতে নগদ টাকা জমানো এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে চড়া সুদের ঋণ নেওয়ার ওপর নির্ভরশীল ছিল, যা তাদের অসহায়তার চক্রে আটকে রেখেছিল।
২০১৪ সালের আগস্ট মাস থেকে এই বাস্তব চিত্রর পরিবর্তন হতে শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা, যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তির একটি জাতীয় লক্ষ্য হিসেবে চালু হয়েছিল, ভারতের প্রতিটি ব্যাঙ্কিং পরিষেবা বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ককে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, একটি আর্থিক পরিচয় এবং ঋণ, বীমা ও পেনশনের মতো প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করে। ব্যাঙ্কিংয়ের বাইরে থাকা মানুষদের ব্যাঙ্কিং পরিষেবা দেওয়া , নিরাপত্তাহীন মানুষদের সুরক্ষিত করা , আর্থিক অনুদান থেকে বঞ্চিত মানুষদের অনুদান দেওয়া, এবং পরিষেবা-বঞ্চিত ও স্বল্প-পরিষেবা প্রাপ্তদের পরিষেবা দেওয়ার এই লক্ষ্যগুলির দ্বারা পরিচালিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা বিশ্বের বৃহত্তম আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।
আপনি কি জানেন?
গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসও প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনার অধীনে অর্জিত সাফল্যকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটি বলা হয়েছে যে “আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে এক সপ্তাহে সর্বাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার সংখ্যা হল ১,৮০,৯৬,১৩০ এবং এটি ভারত সরকারের আর্থিক পরিষেবা বিভাগ দ্বারা অর্জিত।”
২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট এই প্রকল্পটি ১১ বছর পূর্ণ করার সাথে সাথে, এর সাফল্য দেশজুড়ে প্রতিফলিত হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের সংখ্যা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ডিজিটাল লেনদেনের বার বৃদ্ধি হওয়া পর্যন্ত – সবকিছুই এক পরিবর্তিত আর্থিক চিত্রকে তুলে ধরেছে।
এই প্রকল্পের মূল নীতিগুলি:
ব্যাঙ্কিং পরিষেবা থেকে বঞ্চিতদের ব্যাঙ্কিং পরিষেবার আওতায় আনা – ন্যূনতম কাগজপত্র, শিথিল কেওয়াইসি, ই-কেওয়াইসি এবং ক্যাম্পের মাধ্যমে জিরো ব্যালেন্স ও জিরো চার্জে বেসিক সেভিংস ব্যাঙ্ক ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট খোলা।
নিরাপত্তাহীনদের সুরক্ষিত করা – ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে দুর্ঘটনা বীমা-সহ নগদ টাকা তোলা এবং মার্চেন্ট আউটলেটে পেমেন্টের জন্য দেশীয় ডেবিট কার্ড ইস্যু করা।
বঞ্চিতদের অর্থ প্রদান – অন্যান্য আর্থিক পণ্য যেমন ক্ষুদ্র-বীমা, খরচের জন্য ওভারড্রাফ্ট, মাইক্রো-পেনশন এবং ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান।
প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনার সুবিধাগুলি
প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা ব্যক্তিবিশেষের বিভিন্ন আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে বিস্তৃত সুবিধা প্রদান করে, যা সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন উভয়কেই উৎসাহিত করে। এর মধ্যে রয়েছে জিরো-ব্যালেন্স অ্যাকাউন্ট, অন্তর্নিহিত বীমা সহ RuPay ডেবিট কার্ড, ওভারড্রাফ্টের সুবিধা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিজনেস করেসপন্ডেন্টসের মাধ্যমে পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ। এই উদ্যোগটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও সামাজিক সমতাকে সমর্থন করার পাশাপাশি, উন্নত আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য সুবিধাভোগীদের অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সাথেও যুক্ত করে।
বেসিক সেভিংস ব্যাঙ্ক ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট –
যে কোনো ভারতীয় নাগরিক যিনি একটি সাধারণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার যোগ্য, তিনিও একটি বিএসবিডিএ খুলতে পারেন। এই ধরনের অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ব্যালেন্স রাখার প্রয়োজন হয় না। ব্যাঙ্ক শাখা, এটিএম এবং বিজনেস করেসপন্ডেন্টদের মাধ্যমে লেনদেন করা যায়। প্রতি মাসে সর্বোচ্চ চারটি লেনদেন করার সুবিধা আছে।
ক্ষুদ্র অ্যাকাউন্ট – যাদের কাছে কোনো প্রথাগত আইনি নথি নেই, তারা ছোট অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এই অ্যাকাউন্টগুলি ১২ মাসের জন্য বৈধ থাকে এবং যদি প্রথম বছরের মধ্যে একটি বৈধ নথির জন্য আবেদনের প্রমাণ জমা দেওয়া হয়, তাহলে এর বৈধতা আরও ১২ মাস বাড়ানো যেতে পারে।
অন্তর্নিহিত দুর্ঘটনা বীমা-সহ
RuPay ডেবিট কার্ড –
সকল সুবিধাভোগীরা ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দুর্ঘটনা বীমা-সহ একটি বিনামূল্যে RuPay ডেবিট কার্ড পান (২৮ আগস্ট ২০১৮-এর আগে খোলা অ্যাকাউন্টের জন্য ১ লক্ষ টাকা)।
ওভারড্রাফ্ট সুবিধা – সুবিধাভোগীরা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ওভারড্রাফ্ট পেতে পারেন।
বিজনেস করেসপন্ডেন্টস / ব্যাঙ্ক মিত্র – এরা হলেন এজেন্ট, যাদেরকে ব্যাঙ্কগুলি বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় শাখা বা এটিএমের বাইরে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা দেওয়ার জন্য নিযুক্ত করে। বিজনেস করেসপন্ডেন্টস / ব্যাঙ্ক মিত্ররা বাসিন্দাদের সঞ্চয়, জমা, টাকা তোলা এবং মিনি-স্টেটমেন্ট পেতে সাহায্য করেন, যা ব্যাঙ্কিং পরিষেবাগুলিকে একেবারে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।
অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের জন্য যোগ্যতা – জন ধন যোজনার অ্যাকাউন্টগুলি সরাসরি সুবিধা স্থানান্তর, প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা, অটল পেনশন যোজনা এবং মাইক্রো ইউনিট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফাইন্যান্স এজেন্সি ব্যাঙ্ক প্রকল্পের জন্য যোগ্য।
রূপান্তরকারী সাফল্য এবং প্রভাব
প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা সমগ্র ভারতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসারে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে এবং নিম্নলিখিত মূল মাইলফলকগুলিতে পৌঁছেছে :
আর্থিক দিগন্তের প্রসার
প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা অসংখ্য অর্থনৈতিক ও কল্যাণমূলক উদ্যোগের ভিত্তি হিসেবে সমাদৃত হয়েছে। এটি ৩২৭টি সরকারি প্রকল্পের জন্য ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারকে সম্ভব করেছে, যার ফলে অর্থ পাচার এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অপসারণ হয়েছে।
২০১৫ সালে জন ধন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৪.৭২ কোটি, যা ২০২৫ সালের আগস্ট মাস নাগাদ বেড়ে ৫৬.১৬ কোটি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৭% অ্যাকাউন্ট গ্রামীণ/শহরতলির এলাকায় এবং ৩৩% শহুরে/মেট্রো এলাকায় খোলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনায় মহিলারাই এগিয়ে রয়েছেন
জন ধন অ্যাকাউন্টের ৫৬% মহিলাদের, যা আর্থিক পরিষেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতাকে উৎসাহিত করতে এই প্রকল্পের ভূমিকাকে তুলে ধরে। অসংগঠিত ক্ষেত্রের নারীরা, বিশেষ করে পিএম জেজেবিওয়াই, পিএমএস এসবিওয়াই এবং অটল পেনশন যোজনার মতো সামাজিক সুরক্ষা ও ঋণ প্রকল্পগুলির সুবিধা পেয়ে উপকৃত হয়েছেন।
অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার পরিমাণ
প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা অ্যাকাউন্টগুলিতে মোট জমার পরিমাণ ২০১৫ সালের মার্চ মাসের ১৫,৬৭০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২,৬৭,৭৫৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার প্রতি সুবিধাভোগীদের ক্রমবর্ধমান আস্থা এবং আর্থিক কার্যকলাপে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে চিহ্ণিত করে।
ইস্যু করা RuPay ডেবিট কার্ডের সংখ্যা
প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনার অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের মোট ৩৮.৬৮ কোটি RuPay ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হয়েছে, যা নগদহীন লেনদেনকে সহজ করেছে এবং অন্তর্নির্মিত দুর্ঘটনা বীমা সুরক্ষার সুবিধা প্রদান করেছে।
প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট বিপ্লবের অন্যতম মূল ভিত্তি। RuPay কার্ড নগদহীন লেনদেনকে চালিত করেছে। বর্তমানে ভারত বিশ্বব্যাপী রিয়েলটাইম পেমেন্টে নেতৃত্ব দিচ্ছে, আর লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে পিএমজেডিওয়াই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
আর্থিক পরিষেবার প্রসারের জন্য অভিযান
সম্প্রতি, অর্থ মন্ত্রক প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা , প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা এবং অটল পেনশন যোজনার মতো ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পগুলির প্রসার বাড়ানোর জন্য ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী একটি দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচার অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানের লক্ষ্য হলো সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত এবং শহুরে স্থানীয় সংস্থাগুলিতে সম্পূর্ণ পরিষেবা নিশ্চিত করা, যাতে প্রতিটি যোগ্য নাগরিক এই রূপান্তরকারী প্রকল্পগুলির সুবিধাগুলি পেতে পারেন।
প্রথম মাসে (৩১শে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত) ভারতের বিভিন্ন জেলায় মোট ৯৯,৭৫৩টি ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির আওতায় সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্তি সহজ করা এবং আর্থিক সাক্ষরতাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ক্যাম্পগুলি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে, যা তালিকাভুক্তি, তথ্য আপডেট এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।
এই ক্যাম্পগুলির মধ্যে ৮০,৪৬২টির অগ্রগতির প্রতিবেদন সংকলন করা হয়েছে (৩১শে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত)। প্রথম মাসের এই মাইলফলকের পাশাপাশি, প্রায় ৬.৬ লক্ষ নতুন প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে এবং তিনটি জন সুরক্ষা প্রকল্পের অধীনে ২২.৬৫ লক্ষের বেশি নতুন নাম নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়াও, ৪.৭৩ লক্ষের বেশি নিষ্ক্রিয় পিএমজেডিওয়াই অ্যাকাউন্ট এবং ৫.৬৫ লক্ষ অন্যান্য সঞ্চয় অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি বিবরণ পুনরায় যাচাই করা হয়েছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার করতে এবং অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনার উন্নতির জন্য প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনার অধীনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
উপসংহার
প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনার ১১ বছর পূর্তি হতে চলেছে, আর এটা স্পষ্ট যে এই উদ্যোগটি দেশের আর্থিক বাস্তুতন্ত্রকে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দিয়েছে। ২০১৪ সালে চালু হওয়া এই প্রকল্পটি কেবল ব্যাঙ্কিং-এর বাইরে থাকা মানুষকে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় আনার প্রতিশ্রুতিই পূরণ করেনি, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি মজবুত কাঠামোও তৈরি করেছে। ৫৬ কোটিরও বেশি অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে, যার মধ্যে প্রায় ৩০ কোটি মহিলা সুবিধাভোগী রয়েছেন, সেইসঙ্গে বিপুল পরিমাণ আমানত জমা এবং RuPay ডেবিট কার্ডের বিতরণের মাধ্যমে এই প্রকল্পটি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছেছে, যা বিশেষত পিছিয়ে পড়া লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করেছে।
বিভিন্ন সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের সঙ্গে জন ধন যোজনার অ্যাকাউন্টগুলির সহজসরল সংযুক্তি আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে আরও মজবুত করেছে, যা নিশ্চিত করেছে যে সুবিধাগুলি সরাসরি যোগ্য প্রাপকদের কাছে পৌঁছাচ্ছে।
ভবিষ্যতের দিকে তাকালে, জন ধন যোজনার সাফল্যগুলি প্রসারের জন্য একটি দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে, যা সর্বজনীন আর্থিক পরিষেবা এবং ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে নাগরিকদের বর্ধিত অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত করছে। পরবর্তী পর্যায়ের লক্ষ্য হবে এই প্রচেষ্টাগুলিকে সুদৃঢ় করা এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে দেশের আর্থিক অগ্রগতির অংশ করে তোলা।
References:
Ministry of Finance
https://www.pib.gov.in/PressReleseDetailm.aspx?PRID=1952793
https://www.pib.gov.in/PressNoteDetails.aspx?NoteId=152060
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2144990
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2150999
Ministry of Electronics & IT